স্বাস্থ্য সুরক্ষার হুমকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা,

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং অপুষ্টির হাত থেকে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিশ্বের প্রতিটি শিশু ‘আসন্ন হুমকির’ মধ্যে রয়েছে। গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ সতর্কতার কথা জানায় জাতিসংঘ।

এদিকে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩তম। তবে কার্বন নিঃসরণ কম হওয়ার কারণে শিশুস্বাস্থ্য কম ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকে রয়েছে, ১৮০টি দেশের মধ্যে ৩৯তম।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বিশ্বের নামকরা অন্তত ৪০ জন গবেষক, যাঁরা শিশু-কিশোরের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁরা বলেছেন, বিশ্বে এমন একটি দেশও নেই, যারা কার্বন নিঃসরণ, প্রকৃতি ধ্বংস কিংবা অপুষ্টি থেকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে। ধনী রাষ্ট্রগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে গবেষকরা বলেছেন, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ পৃথিবীর সব শিশুর ভবিষ্যেক হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ ছাড়া কার্বন নিঃসরণের কারণে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ থেকে শুরু করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় যেসব রোগবালাই ছড়িয়ে পড়বে, তা শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তত্ত্বাবধানে তৈরি এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত তেল ও চিনিযুক্ত খাবার, মদজাতীয় পানীয় (অ্যালকোহল) এবং তামাকের অবাধ বাজারজাতকরণও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য বড় একটা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ‘ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল হেলথ’-এর পরিচালক অ্যান্থনি কস্টেলো বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি কোনো দেশই নিশ্চিত করতে পারছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বায়ুদূষণের কারণে শিশুদের ফুসফুসের যে ক্ষতি হচ্ছে, সেদিকে তাকালেই বোঝা যায়, আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমাদের কাছে সমাধানও আছে। কিন্তু যেটা নেই, সেটা হলো রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সদিচ্ছা।’

গবেষণা প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক ‘ল্যানসেট’ সাময়িকীতে। সেখানে বিশ্বের ১৮০টি দেশে শিশুদের সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার, পুষ্টির সরবরাহ, শিক্ষার সুযোগসহ পাঁচটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে তালিকাটি করা হয়েছে। তাতে একেবারে তলানিতে রয়েছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (১৮০) ও চাদ (১৭৯)। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস।

প্রতিবেদনে আরেকটি তালিকা রয়েছে, যেখানে শিশুদের সুস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকে মানদণ্ড ধরা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই লক্ষ্যমাত্রা কোন দেশ কতটুকু অর্জন করতে পারছে, তাও তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, এ তালিকায় একেবারে তলানিতে কাতার (১৮০)। দেশটিতে কার্বন নিঃসরণের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৭১৬ শতাংশ বেশি। কাতারের পর রয়েছে যথাক্রমে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টবাগো, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বুরুন্ডি। দেশটিতে কার্বন নিঃসরণের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৯৮ শতাংশ কম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চাদ ও সোমালিয়া। ৩৯তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮০ শতাংশ কম। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৭৭, শ্রীলঙ্কা ৬০, পাকিস্তান ৫৭, মিয়ানমার ৩৬, আফগানিস্তান ৩০ ও নেপাল ২৬তম স্থানে রয়েছে। সূত্র : ল্যানসেট, এএফপি।