সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সভাপতির অভিযোগ চাটখিল মৎস্যজীবী লীগে বিএনপি নেতা

ষ্টাফ রির্পোটারঃ মোটা অংকের টাকা নিয়ে চাটখিল উপজেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগ কমিটিতে এক বিএনপি নেতাকে সহসভাপতির পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন মিন্টু ও পৌর কমিটির সভাপতি নয়নের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন চাটখিল উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. আবক্ষাস উদ্দিন কন্ট্র্র্রাক্টর। এ ঘটনায় উপজেলা কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী ওই বিএনপি নেতাকে দ্রুত দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানিয়েছেন উপজেলা কমিটির নেতারা।

জানা যায়, আব্বাস উদ্দিন কন্ট্রাক্টরকে সভাপতি ও মো. নাছির উদ্দিন মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগ কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৪ মার্চ নোয়াখালী জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ আহ্বায়ক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান ও সদস্য সচিব মো: সিরাজ উদ্দিন বাবুল স্বাক্ষরিত ওই কমিটি অনুমোদন পায়।

চাটখিল উপজেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ কমিটির সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন কন্ট্রাক্টর অভিযোগ করে বলেন, তাকে না জানিয়ে পৌর কমিটির সভাপতি নয়নের যোগসাজশে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোটা অংকের টাকা নিয়ে আমিনুল ইসলাম স্বপন নামে এক বিএনপি নেতাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। আমিনুলকে দলে অনুপ্রবেশকারী বলে মন্তব্য করেন সভাপতি। আমিনুল উপজেলার ৬ নম্বর পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বরত রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট তাকে কমিটিতে সহণ্ডসভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে। আমিনুল ইসলাম স্বপনের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করে কমিটির সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন কন্ট্রাক্টর বলেন, বিএনপির লোককে কোন অবস্থাতেই দলে পদ দেওয়াতো দূরের কথা কমিটিতেও রাখা হবে না। আমিনুল ইসলাম স্বপনকে দ্রুত দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়াও চাটখিল উপজেলা কমিটি অনুমোদনের সময় পৌর আওয়ামী মৎসজীবী লীগ সভাপতি নয়ন জেলা নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন আব্বাস।

এ ব্যাপারে চাটখিল মৎস্যজীবী লীগ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন মিন্টু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পৌর মৎসজীবী লীগ কমিটির সভাপতি নয়ন আব্বাসও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমিনুল ইসলাম স্বপন ২০০৯ সালে দলে যোগ দিয়েছেন। তিনি আব্বাসের কাছ থেকে উপজেলা কমিটি অনুমোদনের সময় কোন টাকা নেননি বলে দাবী করেন।

জেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগ কমিটির সদস্য সচিব মো: সিরাজ উদ্দিন বাবুল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সভাপতি আব্বাস এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। আমি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’ আমিনুল ইসলাম স্বপনকে দলে অনুপ্রবেশকারী, এ তথ্য স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে স্থান দেওয়া হবে না। আমি এটা নিয়ে কাজ করছি। তবে উপজেলা কমিটির অনেক সদস্যই ওই বিএনপি নেতার পক্ষ নেওয়ায় বিষয়টি সমাধান করতে একটু সময় লাগছে।’