মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির মানবেতর জীবন যাপন

আমিনুল ইসলাম মানিক সোনাইমুড়ী থেকে: সোনাইমুড়ীতে নিঃসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের দাম্পত্ত জীবেনে পালিত পুত্র,পুত্রবধু ও কন্যার অবহেলায় মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে। উপজেলার পূর্ব কাশিপুর গ্রামে মৃত হাজী নুর মিঞার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাাশেমের (নেতা কাশেম) পরিবারে এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই মুক্তিযোদ্বা নিঃসন্তান হওয়ায়, ছোট ভাইয়ের এক পূত্র ও কন্যকে শিশু অবস্থা থেকে লালন-পালন করেন । তিনি প্রথম যৌবনে চন্দ্রঘোনা পেপার মিলে চাকুরি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে চট্রগ্রাম ফলমন্ডিতে ফলের আমদানী – রপ্তানী ব্যবসার সাথে জড়িত হন । সেই সময় তিনি ব্যবসার আয় ও ব্যংক থেকে ঋণ নিয়ে চট্রগ্রাম হালি শহর মৌসুমী এলাকায় জায়গা নিয়ে পাঁচ তলা বিশিষ্ট বাড়ি করেন । ইতিমধ্যে গত ২০১৪ সালের মার্চে তাঁর নিঃসন্তান প্রথম স্ত্রী জাহানারা বেগম মারা যায় । তিনি একই বছরে মে মাসে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে আরেক বিধবা নিঃসন্তান হালিমা বেগমের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। পারিবারিক জীবনে তাদের নব-দাম্পত্ত সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন কলহ-বিবাদ না থাকলেও বাধা হয়ে দাড়ায় পালিত পুত্র হাছান বিন কাউছার, পূত্র বধু মিশু ও মেয়ে হাছিনা। তারা সু কৌশলে চট্রগ্রামের ব্যবসা, বাড়ী ও সম্পত্তি নিজেদের নামে করায়ত্ব করে। পালিত পিতা ও দ্বিতীয় মাতাকে অবহেলার চোখে দেখতে শুরু করে । ইতিমধ্যে বাড়ির সমস্ত সম্পত্তি পালিত পূত্র কাউসার মূক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমকে পুষলিয়ে স্ত্রীর মতের বিরুদ্ধে দলিল সৃজন করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় । উল্লেখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্ত মাসিক ভাতা ও চাকুরির স্থল থেকে এককালিন সম্মানীর সমস্তই পালিত পূত্র ও পুত্রবধুর পেছনে ব্যয় হয়ে আসছে। তবুও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের পকেটে ঔষধের টাকা ও নূন্যতম পকেট খরচ মিলছে না। স্ত্রীর দৈনন্দিন খাওয়া-পরার ব্যয়ভার বহন করে না তার পালিত পূত্র। এমতাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধার ভাগিনা সফিকুল ইসলামের আর্থিক সহযোগিতা তারা পেয়ে আসছেন বলে জানা যায়।এই বিষয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম দির্ঘদিন থেকে অনেক অভাব অভিযোগ নিজের মধ্যে দমিত করে রাখলেও হঠাৎ মুখ খোলেন তার স্ত্রী হালিমা বেগম ।
স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, পালিত পুত্র কাউসারের স্ত্রী মিশু তাকে একাধিকবার মারধর করতে উদ্ব্যত হয় । তার ভাতরুমের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় । ঘরের দরজায় মল ত্যাগ করায় ও আবর্জনা ফেলে রাখে। তার সামনে থেকে ভাতের পাতিল ও প্লেট কেঁড়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে অসুস্থ হালিমার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। রাতে শীত যাপনে গরম কম্বল নেই। শীতে হালিমার গলার স্বর ভেঙ্গে গেছে। চা খাওয়ার টাকা নেই বীরমুক্তিযোদ্ধার পকেটে। এমতাবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে এই দম্পত্তি ।