মাইনউদ্দিন আহমেদ

সততার সাথে সাংবাদিকতা করার জন্য তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন অনেক বার। প্রথমে নোয়াখালীর চাটখিল প্রেসক্লাব তাকে সম্মাননা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরো যে সব প্রতিষ্ঠান মাইন উদ্দিন আহমেদকে সম্মাননা প্রদান করেন, তার মধ্যে রয়েছে কল্যাণ সোসাইটি, বাংলাদেশ প্রতারণা প্রতিরোধ সোসাইটি, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি, বাংলাদেশ নির্যাতন প্রতিরোধ সোসাইটি ইত্যাদি। মাইন উদ্দিন আহমেদ এমনই একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি যিনি স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার পিতার সংগ্রহশালায় পেয়েছেন অনেকগুলো মাসিক মোহাম্মদী এবং তার পিতার হস্তলিখিত কিছু গদ্য-পদ্য। পরবর্তীকালে যারা বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্র হয়ে উঠেছেন তাদেও অনেকেরই লেখা থাকতো মোহাম্মদী পত্রিকায়। এরকম একটি অবস্থা তাকে লেখক হবার জন্য উৎসাহী করে তোলে। কলেজে থাকতেই রাতারাতি কবি হবার জন্য ট্রেডল মেশিনে ছেপে নেন স্বরচিত কবিতার বই ‘পদভারে জাগ্রত সিঁড়ি’। সাংবাদিকতা করার ভেতর ফাঁকে ফাঁকে গল্পও লিখতে থাকেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলো নিয়ে প্রকাশিত হয় গল্পের বই ‘অন্যত্র চলো’। আঞ্চলিক ভাষায় ছড়ার বই লেখেন ‘গোমর ওইলো হাক’। ২০১০-এ বাংলা একাডেমীর বই মেলায় তার কবিতার বই ‘পরাবাস্তবতা’ নিয়ে আসে মিজান পাবলিশার্স। এরই মধ্যে তরুণ বন্ধুরা প্রকাশ করে তার কবিতা আবৃত্তির সিডি ‘চন্দ্র বিষয়ক জটিলতা’। বছর চারেক কবিতা আবৃত্তি শেখান জাতীয় প্রেসক্লাব সদস্যবৃন্দেও সন্তানদের। প্রেসক্লাব সদস্য কবিদের মূখপত্র কবিতাপত্র-এর সম্পাদনা পরিষদের একজন সদস্য মাইন উদ্দিন আহমেদ। দিনকাল পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় হিসেবে মুদ্রিত লেখাগুলো নিয়ে তিনি দু/একটা বই ছাপাতে। কাব্যক্ষেত্রে মাইন উদ্দিন আহমেদ-এর বিচরণ বিশ্বজনিন হয়ে ওঠে যখন তিনি আমেরিকার লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস নামে খ্যাত প্রতিষ্ঠানের কবিতার ওয়েবসাইট পোয়েট্রিডটকম-এ কবিতা পাঠাতে শুরু করেন। অত্র প্রতিষ্ঠান তাকে ২০০৭-এ পোয়েট্রি মানথ এম্ব্যাসাডর মনোনীত করেন। তার অনেক কবিতা এডিটরস চয়েজ এওয়ার্ড লাভ করে। সেখানে তার প্রায় একশত ইংরেজি কবিতা রয়েছে ওদেও আর্কাইভে। এছাড়া লাভিংইউডটকম, পোয়েমহান্টার, পোয়েমসঅনলি, পোয়েটস এগেইনস্ট ওয়ার প্রভৃতি ওয়েবসাইটে মাইন উদ্দিন আহমেদের অসংখ্য কবিতা রয়েছে। ওয়েলকামপোয়েট্রি (ওয়েব ফর পোয়েটস) নামের একটি কবিতার ওয়েবসাইট সম্পাদনা করেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাহিত্য পদক পেয়েছেন তিনি। আবৃত্তি করেন চমৎকার।সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক ছাড়াও মাইন উদ্দিন আহমেদ-এর আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি একজন মার্শাল আর্টিস্ট। মার্শালস গার্ডেন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের তিনি চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রশিক্ষক। প্রশিক্ষণের সময় তিনি তার ছাত্র-ছাত্রীদেও ইংরেজিতে কথা বলায় উৎসাহিত করেন। এছাড়াও তিনি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষন শুরু করেন ছল্লিশ বছর বয়সে, চার বছরেরও বেশি সময় কঠিন সাধনা করে ব্ল্যাক বেল্ট লাভ করেন, তিনি ওয়ার্ল্ড ইউনিয়ন অফ কারাতে-দো অর্গানাইজেশনস-এর একজন সদস্য। মার্শালস গার্ডেন নামক তার একটি কারাতে প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। চর্চা করেন সোতোকান স্টাইলের। সম্মাননা ও সনদ পেয়েছেন তাইচী কারাতে একাডেমী এবং বাংলাদেশ কারাতে দো-এর।মাইন উদ্দিন আহমেদ-এর নাট্যক্ষেত্রে বিচরণ ছাত্রজীবন থেকে। স্কুল ও কলেজের অনেক নাটকে তিনি সুনামের সাথে অভিনয় করেছেন। চাকুরি জীবনের প্রচুর ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নাটককে ভুলতে পারেন নি। ১৯৯৬ সনে বিটিভির একটি নাটকেও কাজ করেছেন। চ্যানেল আই-এর সিরিজ নাটক ‘ছায়াবীথি’-তে একটি চরিত্রের নীরব দুঃখ ফুটিয়ে তোলেন তিনি। আবার তিনি ইংরেজি নিউজ সম্পাদনা প্রশিক্ষণ প্রদানে নিয়োজিত। সহজ-সরল মনের অধিকারী এ সাংবাদিক আর্থিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হতে পারেন নি। দলাদলি করে অর্থপূর্ণ চেয়ার লাভ তাকে দিয়ে হয় নি। কিন্তু তিনি কর্মস্থলে কখনো তার বিবেককে ফাঁকি দেন নি। তিনি বলেনঃ- বিবেকের কাছে আমি সব সময় স্বচ্ছ থেকেছি। এতো দীর্ঘ সময় এ পেশায় থাকার পর পৈত্রিক জমি বিক্রি করা আমার অযোগ্যতার ফসল না কি অন্যদের অবিচারের ফল, তা আমি জানি না, তবে আমার কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই। বিভিন্ন গুণের অধিকারী মাইন উদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে জানতে গিয়ে আমাদেও মনে হয়েছে তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। সমাজের ওনার কাছ থেকে নেয়ার এবং ওনাকে দেয়ার অনেক কিছু আছে। এ বছরের বিশ্ব কবিতা দিবসে আয়োজিত জাতীয় প্রেসক্লাব কবিদেও অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি/সাংবাদিক মাইন উদ্দিন আহমেদ। অনেক কবির ভীড়ে এক ধরনের অসাধরণ সুস্থিরতা নিয়ে তিনি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন। মাইন উদ্দিন আহমেদকে একজন সমবায়ীও বটে,মিরপুরে সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি হিসেবে। সভাপতি থাকাকালে সমিতির নির্ধারিত কাজের বাইরেও তিনি সমাজকল্যামূলক কাজ করেছেন। সমিতিকে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে যথেষ্ঠ বাহবা কুড়িয়েছেন। মানবকল্যাণমূলক সংগঠন আবদুল্লাহ সাহেব স্মৃতি সংসদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দিবসে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বক্তৃতা চর্চা প্রভৃতি আয়োজন করেন। এগুলোতে তিনি সংশিষ্ঠদের উৎসাহ দেয়ার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখেন। স্কুল ও কলেজে পাঠরত সময়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নাট্য অঙ্গনে তার সম্পৃক্ততা এখনো সবাই খুশি ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করে। তিনি একাধিকবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং বিএফইউজের কাউন্সিলর ছিলেন। একনিষ্ঠ এবং সৎকর্মী মাইন উদ্দিন আহমেদ বিশ্রী ধরনের দালালি বা পিঠ চুলকানি পছন্দ করেন না। তাই পেশাগত জীবনে তিনি স্বাধীনচেতা। সম্প্রতি তিনি ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিঃ-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন এবং সবার প্রত্যাশা এই যে, তিনি সততার সঙ্গে সমিতির সদস্যদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করবেন। এরই মধ্যে তিনি গঠনমূলকভাবে তৎপর হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, সততা থাকলে যে কোন প্রতিকুলতা অতিক্রম করে ভালো কাজ করা যায়। প্রায় কুড়ি বছর দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে কাজ করে সম্প্রতি তিনি সে প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। এ ব্যাপাওে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন যে, সবাই আমাকে খুবই স্নেহের চোখে দেখেন এবং আমি যতক্ষণ কাজ করেচি কখনো নিজের বিবেককে ঠকাইন। মন-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছি। সুতরাং কেউ আমাকে অসম্মানিত করবে না। ইদানিং তিনি আরেকটি সৃষ্ঠিমূলক সংবাদ সম্পর্কিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক সব সময়ই সাংবাদিক। সুতরাং বসে থাকার সময় নেই। ইংলিশনিউজবিডিডটকম নামক একটি অনলাইনে নিউজ পোর্টাল সম্পাদনা করেছেন তিনি।