ভিন্ন দেশে আমরা সবাই সবার আপন জন

আমেরিকা প্রবাসী চাটখিলবাসীরা কেমন আছেন, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। কল্পনাপ্রসূত কাকতালে কেউ কেউ এটাকে যেমন এক স্বর্গরাজ্য মনে করেন, কারো কাছে আবার প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা অতটা সুখকর নয়। জাতিগত সংশয়, নিষেধাজ্ঞার খড়্গ কিংবা জীবনযাপনের জটিলতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে চলেছে চাটখিলের অভিবাসীর সংখ্যা। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অঞ্চল নোয়াখালী। চাটখিল নোয়াখালী জেলার একটি ছোট উপজেলা হলেও দেশের বৈদাশিক মুদ্রা অর্জনে চাটখিলের বাসিন্দা প্রবাসীদের তুলানা নেই। স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশ স্বাধীন করতে যেমন যুদ্ধে গিয়েছে সাধারণ মানুষ তেমনী চাটখিলে সন্তানেরা অর্থনীতিক যুদ্ধে পাড়ি জমিয়েছে দেশের বাহিরে- কেমন আছেন দেশের বাহিরে চাটখিলের ছেলেরা এই শিরনামে চাটখিলবার্তায় নিজের বিস্তারিত পাঠিয়েছেন আমেরিকায় বসবাসকারী চাটখিল উপজেলার শওকত আলী ইমন-

শওকত আলী ইমন, গ্রামের বাড়ির চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ছোট জীবনগর। ২০০৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার বছরই বাবা মারা যায় ৫ ভাই বোনের মধ্যে শওকত সবার ছোট। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক বছর বাংলাদেশে থেকেও তেমন কিছু করতে না পারায় অনেকটা হতাশা। তারপর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালে আমেরিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।

সেখানে তিনি একটি বিদেশী কোম্পানির ডিপাটমেন্টাল স্টোরে চাকুরী নিয়েছেন। তিনি চাটখিলবার্তাকে বলেন, ডিপার্টমেন্টে আমাকে শওকত নামেই চেনে। এখানে আমার পরিচিত কিছু বাংলী আছে। বাংলাদেশে ইংরেজী পড়লেও ইংরেজীতে আমি তেমন ভাল ছিলাম না। নিউইয়র্কে আসার আগে এখানকার রীতিনীতি সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, কিভাবে বিদেশী বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে হয় সেটাই আমার জানা ছিল না। প্রথম দিনের একটা ঘটনার কথা আমার মনে পড়ে। দোকানে প্রথমদিনেই বাঙালী বাংলাদেশী লোক খুঁজছিলাম। যখন কাউকে পেলাম না তখন ভয় পেয়ে এক চাইনিজ লোকের সাথে সর্ম্পক করি। পরবর্তীতে চাইনিজ, ইন্দোনেশিয়ান, জাপানী অনেকের সঙ্গে ভাল বন্ধু হয়ে যায়। এখানে সবাই সবার উপকারে করে। ভিন্ন দেশে আমরা সবাই সবার আপন জন।

তিনি আরো বলেন, বিদেশ যাওয়ার পর একই গ্রামের দুইজন প্রতিবেশির কথা। একজন জহিরুল ইসলাম প্রিয়াস অন্যজন ভু্ট্টু যিনি বষসের বড়। তারা দুইজনেই তাকে শাররিক, মানুষিক অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই সহযোগীতা করেছেন। তাদের উপকারের কথা সারা জীবন মনে রাখার মত, তবে আমি অন্য কাহারো উপকার করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই বললেন শাওকত।

শওকত আলী ইমন ৩ জানুয়ারী ১৯৯০ সালে উপজেলার জীবন নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। ২০১৬ সালে আমেরিকাতে গিয়ে অদ্যবদি তিনি বাংলাদেশের একজন রেমিটেন্টস যুদ্ধা হিসেবে আমেরিকাতেই আছেন।