প্রতি বছর রমজানের উপহার ও একজন জাহাঙ্গীর কবির!!

মাইনউদ্দিন বাঁধন:: বর্ষ পরিক্রমায় চাটখিলের রাজনীতিতে এসেছেন অনেক নেতা। নেতৃত্ব দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে. নিরলস কাজ করছেন মানুষের জন্য। ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত হয়েছেন অনেক শিপ্লপ্রতি, ধনাট্য বক্তিবর্গ। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে সবাই নামে মাঠে। ভোট শেষ তো, মানুষকে দেওয়া অঙ্গীকারও শেষ। ভোটের আগের বছরের অঙ্গীকার আর পরের বছরের কর্মের যে বিশাল প্রার্থক্য্ তা চাটখিলের শিশুটিও বুঝে।

২০২০ সালে প্রথম করোণা শুরু হয় চীনে। সেখান থেকে আমাদের দেশে আসতে সময় লেগেছে মাত্র তিন মাস। অর্থাৎ মার্চের দিকে আমাদের দেশের সরকারী ভাবে লগডাউন ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে করোনার আগেই চাটখিল পৌরসভার ভোট শুরু হওয়ার খবর মোটামুটি ভাবে আলোচনায় আসে। তাই লগডাউনে নির্বাচনের প্রার্থীদের ত্রাণ বিতরণের যে হিঁড়ক পড়েছে তা দেখে পৌরবাসী হয়েছিল আনন্দিত। ভাবে এই বুঝি যা আল্লাহ আমাদেরকে কিছু লোকের কল্যাণে চালিয়ে নিবে, নিয়েছেও তাই। করোণার পরে সব কিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করল। শেষ হল পৌর সভার ভোট। বছর ঘুরে এইবারও আসলো মার্চ শুরু হলো করোনার প্রভাব। সরকারও বাধ্য হয়ে আবারও লকডাউনের ডাক দিয়েছে। দুই দফায় ১৪ দিনের মত শেষ হয়েছে লকডাউন। আবারও ৭ দিনের লকডাউন মন্ত্রী পরিষদের  আলোচনার টেবিলে। সববই আগের মত আছে, নেই শুধু ত্রাণের চাউল নিয়ে হুমড়ি দিয়ে পড়া সে সকল প্রার্থীরা। এবার যেন আর ১০০ টাকা দিতেও গায়ে লাগে।

 

তবে এদের মাঝেও কিছু রাজনীতিবিদ কিংবা ভালো মানুষ রয়েছে যারা সব সময় দান কিংবা ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসকল প্রতিদান কিন্তু রাজনীতি কিংবা ব্যক্তি পরিচয়ের জন্য নহে।

তাদের মধ্যে একজন আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কবির। একজন নির্লোভী  রাজনীতিবিদ। তিনি চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ার আগ থেকেই আমার ব্যক্তিগত ভাবে পরিচিত। তখন হয়তো চাটখিলের মানুষের কাছে তেমন ভাবে পরিচিত না হলেও তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িছেন সব সময়।

২০১৩ সালে তিনি প্রথম চাটখিল উপজেলা ভোটে অংশ গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। আর আমরা দেখেছি তারও আগ থেকে তিনি প্রতি বছর রমজান আসলেই চাটখিল উপজেলার ৫ হাজার পরিবারের খাদ্য সামগ্রী, ইফতারী ও ঈদ উপহার নিয়ে হাজির হন। কিন্ত তার কাছে প্রতি বছরেই কি নির্বাচন? না, তিনি কখনো নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য মানুষের পাশে দাঁড়ান না। তিনি আসলেই দানের উদ্দ্যোশে রামজানের আগেই উপস্থিত থাকেন মানুষের উপকারে।

 

বিভিন্ন তথ্যমতে চাটখিল উপজেলাতে আনুমানিক ৩০ হাজারটি পরিবার রয়েছেন যাদের মধ্যে ২০হাজার পরিবার রয়েছে যাদের বছর শেষে একটু সহযোগীতার প্রয়োজন। জাহাঙ্গীর কবির যদি ৫ হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়ান, আর ১৫ হাজারটি পরিবারের পাশে মাত্র ৩জন ব্যক্তি দাঁড়ালেই আমাদের চাটখিলের সাধারণ মানুষ গুলোর তেমন অভাব থাকবেনা। কিন্তু আমরা বছর শেষে দেখি অনেকেই বড় বড় নেতা, শিল্পপ্রতি কিংবা ধনাট্য ব্যক্তির অভাব নেই। কিন্তু রজমানে দান কিংবা ত্রাণ বিতরণের সময় একজন মানুষকেই আমরা সামনে পাই। তিনি হলেন চাটখিল উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কবির।

একজন রাজনীতিবিধ হিসেবে আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কবির আমাদের মাঝে তার চারিত্রিক মাহাত্ম্য ও অমায়িক গুণাবলির পরিচয় দিয়েছেন, বিগত ৮বছর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে পালনের মাধ্যমে। এসময় তিনি সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষার মান-উন্নয়নে, যা চাটখিলবাসী ভুলে যাওয়ার নয়।

তিনি তার ৮ বছরের দায়িত্বের মধ্যে তিনটি ক্ষেত্রে সমান ভাবে বিচরণ করেছেন_ রাজনীতি, শিক্ষার মান-উন্নয়ন ও আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন।

তিনটি ক্ষেত্রেই তিনি সাফল্য পেয়েছিলেন এবং নিজের ইচ্ছা শক্তি কাজে লাগাতে পারেছেন। তিনি যেমন উপজেলা চেয়ারম্যান তেমনী একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতি, তার  অমায়িক ব্যবহার, দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম আর সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই যেন তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। আর এ কারণেই তিনি জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে চাটখিল উপজেলাতে সবার শ্রদ্ধা অর্জনে সমর্থ হয়েছেন।

চাটখিল উপজেলার মানুষের কাছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পপতি কিংবা সততা সর্ব ক্ষেত্রেই আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কবির একটি আর্দশিক উদাহারণ।