দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন নোয়াখালী ব্লাড হান্টারের ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব ২০২০

দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন নোয়াখালী ব্লাড হান্টারের ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব ২০২০ উদযাপিত হয়েছে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী। নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মুনীম ফয়সালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি এর ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।

উৎসবে সারাদেশ থেকে প্রায় ১২০টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন সংগঠন থেকে আগত ডেলিগেটরা ব্লাড হান্টারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো শুরু করেন। পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় জমকালো আয়োজনের মূল অধিবেশন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সর্বাধিক গিনেস বুক রেকর্ডজয়ী বাংলাদেশি যুবক কনক কর্মকারকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় অনুভূতি জানাতে গিয়ে কনক কর্মকার এই সম্মাননাকে তার জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন বলে জানান। তিনি সবাইকে এধরনের কাজে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ভাষার মাসে নোয়াখালী ব্লাড হান্টারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়ায় আমার প্রথমেই মনে পড়লো সালাম জব্বার রফিকের কথা তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ভাষাকে রক্ষা করেছিলেন আর এই সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের রক্তদান করে মানুষের জীবন রক্ষা করছেন। তিনি ভাষার মাসে বাংলার প্রতি আরো যত্নশিল হওয়ার গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা নোয়াখালী ব্লাড হান্টারের প্রধান উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছরে ৪০০০ ব্যাগ রক্তদানের ভূয়সী প্রসংশা করে ভবিষ্যতেও এধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন ভুলুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ হারুন, আমেরিকান স্পেশালাইজড হসপিটালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. শাহাদাৎ হোসেন রোমেল।২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি “স্বেচ্ছায় করি রক্ত দান আমার রক্তে বাঁচবে প্রাণ” স্লোগানকে সামনে রেখে অরাজনৈতিক, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নোয়াখালী ব্লাড হান্টার’র পথচলা শুরু হয়। যদিও সংগঠনের মূলকার্যক্রম রক্তদান ও এ সম্পর্কিত গণসচেতনতা তৈরি করা তথাপিও অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা এবং নিষ্ঠাবান সদস্যদের ভালোবাসায়  রক্তদানের পাশাপাশি আরো কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যেমন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং সু-খাদ্যের ব্যবস্থা করা। অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি, বর্ন্যার্তদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও মেডিকেল ক্যাম্প, নোয়াখালী জিলা স্কুলের দেয়ালে মানবতার দেওয়াল স্থাপন সম্পন্ন করাসহ সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর মানুষকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

একদল নিষ্ঠাবান ত্যাগী কর্মী বাহিনীর মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ১২ হাজার ব্যাগ রক্তদান যার মধ্যে শুধু নোয়াখালীতেই ৪ হাজার ব্যাগ রক্তদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছরে ১৯টি ফ্রি ব্লাড গ্রুপ ক্যাম্পেইনে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ জনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়েছে। নিজেদের তত্ত্বাবধানে এই পর্যন্ত ৭ জন ক্যান্সারের রোগীর চিকিৎসায় অর্থের যোগান এবং ৩০০ এর অধিক রোগীর রক্তের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ফি সংগঠন থেকে দেওয়া হয়েছে।