দুর্নীতি, অনিয়মে ভরা আমাদের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।

নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। ভুক্তভোগীরা জানান, এ দপ্তরে দালাল ছাড়া কোনো গ্রাহক পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ পান না। তবে একাধিক দালাল জানান, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ-সাজশেই আমরা এসব করি, কিন্তু সব দোষ হয় আমাদের।

ওই দালাল আরও বলেন, একটি পাসপোর্ট থেকে তারা অতিরিক্ত এক হাজার ১০০ টাকা বেশি নিয়ে থাকেন। এ টাকার সিংহভাগই চলে যায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পকেটে। অন্য এক দালাল জানান, তাদের মাধ্যমে জমা দেওয়া প্রতিটি ফরমের গায়ে একটি করে সাংকেতিক চিহ্ন থাকে। সে অনুযায়ী দপ্তরের কর্মকর্তারা দালালদের কাছ থেকে সুবিধা বাগিয়ে নেন। এক্ষেত্রে কোনো কোনো দালাল আবেদনপত্রে নিজ নামের বিপরীতে একটি ভুয়া সত্যায়ন সিল দিয়ে দায় সারেন। সীল অনুযাযী বলা যায় এ আবেদনপত্রটি কার দখলে।

দালালের মাধ্যমে কোনো ফরম জমা দিলে তা যতই ত্রুটিপূর্ণ হোক না কেন তা নিয়ে কোনো ঝামেলাই পোহাতে হয় না গ্রাহককে। বিপরীতে কোনো গ্রাহক দালালের দ্বারস্থ না হয়ে ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার সময় নানা দোষত্রুটি ধরে ফরম জমা নেওয়া হয় না। জানা গেছে, দালালের মাধ্যমে যে ফরম জমা হয়, তার সত্যায়নের অধিকাংশই ভুয়া ও বানোয়াট সিল-স্বাক্ষরে সম্পাদিত।

নোয়াখালী সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মনিরুজ্জামান চৌধুরী ও কোষাধ্যক্ষ দ্বীপ আজাদ জানান, পাসপোর্ট ফরমেই পরিষ্কার বলা রয়েছে, কোনো দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক যে কোনো পাসপোর্ট ফরমের গ্রাহকের পক্ষে সত্যায়ন করতে পারবেন। আগে এর ধারাবাহিকতা অক্ষু্ন্ন থাকলেও বর্তমান উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান যোগদানের পর সে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে।

আ স ম হোসান উদ্দিন নামে এক সেবাপ্রত্যাশী জানান, এর আগে জেলার একটি দৈনিকের সম্পাদকের স্বাক্ষরে দুই শতাধিক পাসপোর্ট সম্পাদিত হয়েছে, কিন্তু বর্তমান উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান যোগদানের পর তাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। মাহবুবুর রহমান মনে করেন, সম্পাদকদের হাতে সম্পাদিত হলে তিনি দালালদের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণে বঞ্চিত হবেন। এ কারণে দালালনির্ভর প্রতিষ্ঠানকে আরও দালালবান্ধব করার খায়েশেই তিনি উপরোক্ত কাজ করছেন।

হাতিয়া থেকে পাসপোর্ট করতে আসা ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, তিনি হজ পালনের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংকে জরুরি ছয় হাজার ৯০০ টাকা জমা দিয়ে পাসপোর্ট ফরম পূরণ করে জমা দিতে গেলে বলা হয়, কোনো পত্রিকার সম্পাদকের সত্যায়ন গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে  আজকের সারা দিনটি তার কাছে ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, পাসপোর্ট ফরম জমা দিতে যদি এত সমস্যায় পড়তে হয়, তাহলে বই পেতে তো ভোগান্তির সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এ কারণে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হাতে বই পাবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

তবে এ বিষয়ে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, তিনি সরকারি আইন মোতাবেক সবই করছেন।