চাটখিলের মনির নামের একজন সহ ৬ নারী পাচারকারী আটক

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সদস্যরা। এ সময় ৪ জন তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যে একত্রিত করার সময় উদ্ধার করেছে র্যাব সদস্যরা। আন্তজার্তিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা গত এক বছরের ৭২৯ জনকে পাচার করেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭০টি পাসপোর্ট, ২শটি পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমানের টিকেট, ৫০টি ভিসার ফটোকপি, নগদ ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা টাকা, ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর ও ১টি বিলাসবহুল মাইক্রোবাস। শনিবার দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের তারাব মোড়ের শাহ চন্দপুরী রেষ্টুরেন্ট ও ঢাকার খিলগাঁয়ের গোড়ান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে রবিবার বেলা আড়াইটায় র্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত সিও) স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ রেজাউল হক নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১’র প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- র্যাব-১১’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিউর রহমান।

গ্রেফতারকৃরা হলো- ময়মনসিংহের ধুপাউড়ার মোঃ অনিক হোসেন (৩১), নোয়াখালীর চাটখিলের মোঃ মনির হোসেন ওরফে সোহাগ (৩০), নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মোঃ আক্তার হোসেন (৪০), চাঁদপুরের কচুয়ার মোঃ আফতাউল ইসলাম ওরফে পারভেজ (৩৭), কুমিল্লার চান্দিনার আঃ হান্নান (৫২) ও মাদারীপুরের সদর থানার মোঃ আকাশ (২৯)। এদের মধ্যে ৫ জনকে রূপগঞ্জ ও আকাশকে ঢাকার খিলগাঁয়ের গোড়ান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

র্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ রেজাউল হক জানান, গ্রেফাতারকৃতদের জিজ্ঞাবাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামীরা একটি সংবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যর। তারা ১৫ থেকে ২৫ বয়সী সুন্দরী তরুণীদের উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে থাকে। এই পাচারকারী সিন্ডিকেডের সাথে বিপুল সংখ্যক এজেন্ট, পাসপোর্ট দালাল, ডান্স বারের মালিক, ট্রাভেল এজেন্সী ও অসাধু ব্যক্তিরা যুক্ত রয়েছে। এই নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের এজেন্টরা নিম্নবিক্ত পরিবারের, পোশাক শিল্পের ও ব্রোকেন ফ্যামিলির সুন্দরী তরুণীদের প্রাথমিকভাবে টার্গেট করে থাকে। টার্গেট করার পর প্রথমে তরুণীদের ছবি বিদেশে অবস্থিত ড্যান্স বারের মালিকদের পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যান্স বারের মালিক অথবা তার প্রেরিত প্রতিনিধি সরাসরি উক্ত তরুণীদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঢাকা অথবা আশেপাশের কোন রেষ্টুরেন্টে, হোটেল অথবা লং ড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাসের সাক্ষাত করে থাকে। চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট উক্ত নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব পাসপোর্ট দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করে থাকে। ট্রাভেল এজেন্সীর মালিকদের মাধ্যমে নথিপত্র ম্যানেজ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে এই তরুণীকে মধ্যপাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে থাকে।