চলে গেলেন চাটখিলের উজ্জ্বল নক্ষত্র মেজর তাহের আহমেদ

জি এম শাকিল ;একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) তাহের আহমেদ বীরপ্রতীক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাত ৯:০০ ঘটিকায় সিএমএইচ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।

মু‌ক্তিযুদ্ধ তাহের অাহমেদ বীর প্রতীক এর অবদান, শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের কাছে বুরেরচরের যুদ্ধে তাহের আহমেদ যথেষ্ট রণকৌশল প্রদর্শন করেন। তার নেতৃত্বে সেখানে জামালপুরের বেগুনবাড়ি সেতু ধ্বংসের উদ্দেশ্যে একদল মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান নিয়েছিলেন সেখানে। সেই সময় ট্রেনে একদল পাকিস্তানি সেনা আসলে তিনি আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনামতো বেলা ১১টায় তারা একযোগে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করেন এবং বিকেল পর্যন্ত যুধের পর পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে নদীর পাড়ে সমবেত হয়। এই সময় তাহের আহমেদ একটি কৌশল প্রয়োগ করেন। তাহের আহমেদের নির্দেশে কয়েকজন গ্রামবাসী নৌকায় করে পাকিস্তানি সেনাদের পার করে দেওয়ার অভিনয় করেন, নৌকা মাঝনদীতে যাওয়ামাত্র গ্রামবাসীরা তার সঙ্কেতে জলে ডুব দেন। তখন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালালে পাকিস্তানি সেনারা এই অতর্কিত আক্রমণে নিহত হয়।তাঁর অ‌নেক অবদান র‌য়ে‌ছে।তি‌নি ওয়ার কোর্স এর বাংলাদেশ এর প্রথম অফিসারমেজর তাহের আহমেদ, বীর প্রতীক স্বপ্ন ৭১ না‌মে কৃ‌ষি, শিক্ষা, বি‌নোদন ভি‌ত্বিক বাগান, পার্ক গ‌ড়ে তু‌লে‌ছি‌লেন। সুন্দর চিন্তা ও আদর্শ নি‌য়ে স্বপ্ন ৭১ গ‌ড়ে তুলে‌ছি‌লেন নোয়াখালীর চাটখিলে।বেশিরভাগ সময়ই থাকতেন পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নিজ ভাওরে গ্রামে। সেখানে সাজিয়েছিলেন ফল-ফুলের বাগানবাড়ি।১৯৭১ সালে মেলাগড়ে সেক্টর-২ এ ‘গেরিলা’ হিসেবে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করেন। ০৯ অক্টোবর ১৯৭১ সালে তিনি ২/লেঃ হিসেবে কমিশন লাভ করে সেক্টর-১১ তে যোগ দেন। সামরিক বাহিনীর চাকুরী শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োজিত ছিলেন। ‌নি‌লোভ, সৎ, আদর্শবান হিসা‌বে তি‌নি সবর্ত্র সমাদৃত ছি‌লেন। চাটখিল উপজেলার সন্তান, দেশের গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা, বীর এই সেনানীর চলে যাওয়া অনেক কষ্টকর। দৈনিক চাটখিলবার্তা পরিবার মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে।