কেন মা হারা শিশু সামিরকে এভাবে খুন হতে হলো !

সামিরের জন্মের মাত্র ৭ মাসের মাথায় মৃগী রোগী মা সালমা আক্তার শ্বশুর বাড়ি চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের শেখের বাড়িতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে করুন মৃত্যুর কবরে পড়ে। সামিরের ঠাই হয় নানার বাড়ি সোনাইমুড়ী উপজেলার ঘাসেরখিল গ্রামে নানার বাড়িতে। নিজের একমাত্র কন্যা হারানোর শোক ভুলে গিয়ে নানী পেয়ারা বেগম সামিরকে এবং তার বড় এক বোনকে পৃথিবীর সমস্ত ভারবাসা মায়া ও মমতা দিয়ে আগলে রাখতে চেয়েছেন। চার মামারও চোখের মনি ছিল যেনো সামির। কিন্তু বিধি বাম। গত ২০ জানুয়ারী দুপুর ৩ টার দিকে নানাদের ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় নিখোঁজ হয় ২ বছর ৫ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু সামির। চারদিকে খোঁজা-খুঁজি, খোনার বদ্যের পেঁছনেও অযাচিত সময় ব্যায় সবই হলো। সবশেষ থানায় জিডিও করা হলো। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় প্রথমে তাদের নানাদের ঘরের কেউ কিংবা ঘরের আশ পাশের কারো জড়িত থাকার । কিন্তু সামিরের মামা বাদী রনি কিংবা কারো থেকে এ ব্যাপারে ভালো সমর্থন পাননি পুলিশ। রনির নানার ফ্যামিলির লোকজন পুলিশের চেয়ে খোনারেই আগ্রহ বেশী দেখা গেল।তাতে পুলিশেরও একটা গা-ছাড়া ভাব দেখা দিল। খোনাররা ধারনা দিতে লাগলো , সামির জীবিত আছে এবং বেশ ভালো আছে। এম ধারনা পেয়ে সবাই সান্তনা পেল যাক তাহলে জীবিততো আছে। কিন্তু সব ধারনাকে মিথ্যে প্রমান করে নিখোঁজের ১৫ তম দিন ৩ ফেব্রয়ারি শনিবার তার নানার বাড়ির খানিকটা দূরের অব্যবহৃত পুকুরে সামিরের লাশ ভাসমান দেখতে পাওয়া গেল। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠালো। লাশে সবশেষ হাতের ছোঁয়া প্রমানে ডিএনএ টেষ্ট করা হলো কুমিল্লাতে নিয়ে। সন্দেহভাজন তার একমাত্র মামী মিলি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার এবং নানাদের পরিবারের সবার ডিএনএ মেলাতে আলামত সংগ্রহ শেষে মঙ্গলবার রাতে সামিরের লাশ নানার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয় এবং ঘাসেরখিলে তাকে তার মায়ের কবরের পাশে শায়িত করা হয়। এখন সবার মনে একটিই প্রশ্ন কেন এমন ফুটফুটে মা হারা শিশু সামির দিনে দুপুরে ঘর থেকে এভাবে উদাও হবে এবং এভাবে লাশ হযে যাবে! পুলিশ বলছে তারা অনেকটাই নিশ্চিত সামিরকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তারা যে কোন মুল্যেই সামিরের খুনের রহস্য বের করবে এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করবে। প্রিয় নোয়াখালীর পাঠকরাও সামিরের খুনের বিষয়টা নিয়ে নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এবং তারা এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চাচ্ছেন। পাঠকদের প্রত্যাশা পুরনে আমরা চেষ্টা করবো । পুনশ্চ: যে সব খোনারের বিভ্রান্তমূলক প্রতারনায় একটি খুনের রহস্য অন্যদিকে মোড় দিতে যায় সে সব ভন্ডদের নিয়ে প্রতিবেদন করবে প্রিয় নোয়াখালী। তবে তার জন্য প্রয়োজন হবে সামিরের নানার পরিবারের তথ্যগত সহযোগীতা।