কর্তৃপক্ষ নীরব চাটখিলে ওষুধ-বাণিজ্য হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

Mon, May 28th, 2012 -এ প্রকাশিতপ্রধান প্রতিবেদন কথায় আছে চাটখিলের মানুষ ভাতের চাইতে ওষুধ বেশি খায়। কারণ এখানকার মানুষ স্বাস্থ্য বিষয়ে একটু বেশি সচেতন। আর এই সচেতনতাকে পুঁজি করে সরকারী ড্রাগস এ্যাক্টসকে অমান্য করে প্রায় ৮০ শতাংশের ও বেশি অ-ফার্মাসিস্টরা যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মত ফার্মেসী ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্দ্ধিধায় । সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরবতা ও উদাসীনতা মনভাবের কারনে এহেন নাজুক অবস্থা বলে সচেতন মহলের অভিযোগ ও অনুযোগ। সাধারণ জনগণ কী জানেন? তারা স্বাস্থ্য সেবায় কতটুকু হুমকির সম্মুখিন হচ্ছেন তিলে তিলে। চাটখিল পৌর শহরেই রয়েছে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল এন্ড ড্রাগ এ্যাক্টস এর অনুমোদনহীন প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি ফার্মেসী। এমনকী চাটখিল বাজারেই রয়েছে ২’ শতাধিক বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ। তাদের সংগঠনের নাম হল ফারিয়া। এ ছাড় ও উপজেলার ৯’ ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ে এ ব্যবসার ব্যাপক প্রসারতার সঠিক হিসাব দেয়া অত্যন্ত দূরূহ ব্যাপার। সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী এই পেশার সাথে সম্পৃক্তদের কমপক্ষে এইস.এস.সি পাশ এবং বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল থেকে ফার্মাসিস্ট এর ওপর স্বল্পময়াদী কিংবা দীর্ঘ মেয়াদী একটি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তারপর কেমিস্ট এ্যান্ড ড্রাগস এ্যাক্টস্ বিভাগ থেকে কোর্স সম্পন্নকারীকে ব্যাবসার জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এটাই নিয়ম। যেহেতু মুদি,মনোহারী, কাঁচামালের ব্যাবসার সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। কারণ এটা মানুষের জীবন সুস্থ্য-স্বাভাবিকতার ওপর নির্ভরশীল। প্রসঙ্গত: ফার্মেসী বিদ্যা হলো মেডিকেল সায়েন্সের একটি বিশেষ শাখা। বাংলাদেশ সরকার ড্রাগস কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স’ ১৯৮২ সালে ওষুধের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানী, বিতরণ, সংরক্ষণ, ও বিক্রয় ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই আইন জারী করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন ও ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটির মাধ্যমে ফার্মেসী হোল্ডারগনের লাইসেন্স পাওয়া ও নবায়ন করতে পারবেন। প্রশিক্ষিত ড্রাগিষ্ট এন্ড কেমিষ্ট এর মাধ্যমে ওষুধ ক্রেতাগণ তাদের মৌলিক অধিকার পাবেন। ড্রাগস এ্যাক্ট ১৯৪০ দ্বারা ওষুধের আমাদানি, রপÍানী, প্রস্তুত, বিতরণ, বিক্রয় ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চাটখিলের মেক্সিমাম ফার্মেসী হোল্ডারদের মধ্যে নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল অনুমোদিত সনদপত্র। যা কেবল ড্রাগ সুপার, জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে ভালোভাবেই অবগত রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাটখিলের প্রকৃত ফার্মাসিস্টরা অভিযোগ করে বলেন কর্তৃপক্ষ কেন বৃহত্তর জনস্বার্থে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বিভিন্ন ফার্মেসী ঘুরে দেখা যায় রেজিষ্টার্ড ডাক্তারের ব্যবস্থা পত্র ছাড়াই সাধারণ জনগণের দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অনেক নামি-দামী এমনকি এদেশে অনুমোদনহীন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধপত্র বিক্রি করা হচ্ছে। যেমন বাত ব্যাথা, জ্বর, কাসি, ডায়রিয়া, পেটের ব্যাথা, গ্যাষ্ট্রিক, আলসার, সর্বপরী যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ক্যাপসুল ও ইনজেকশান ইত্যাদি। ওষুধের কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ওষুধ আন্ত-প্রতিক্রিয়া ও ওষূধের মেয়াদ সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন । এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো একটি নিদির্ষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে হয়। এবং এই জন্য প্রয়োজন প্রিজারভেটিভ মেন্টেইন করা। সেটাও চাটখিলের ম্যাস্কিমাম ফার্মেসীতে নেই। তাই সহজে সেই সব ওষুধের গুণাগুণ স্বল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যায় এবং হারিয়ে যায় কার্যকারিতা। চাটখিলের ফার্মাসিস্ট ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট আইডিয়াল ফার্মেসীর প্রোপাইটর মোঃ শহিদ উল্যাহ জানান এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেন। বাংলাদেশ ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশন অব চাটখিল শাখার সভাপতি ফজলুর রব বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ ফয়েজুল ইসলাম পাটওয়ারীর সাথে যোগাযোগ করলে তারাও জানান ফার্মাসিস্ট প্রশিক্ষণ ছাড়া এ ব্যবসা পরিচালনা করা ন্যায়সংঙ্গত নয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে জনস্বাস্থ্য সেবা সুনিশ্চিত করাতে এখনই সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন করা ।