করোনা যুদ্ধের প্রথম শহীদ চিকিৎসক ডাঃমইনউদ্দিন বলে স্মৃতি চারণ করলেন চাটখিলের ডাক্তার এটিএম জাবেদ হাসান

#করোনা_যুদ্ধের_প্রথম_শহীদ_চিকিৎসক
#ডাঃ_মইন_উদ্দি

ডাক্তার বলে ডাক্তারের প্রতি সমবেদনা নয়,
অন্য মৃত্যুর মত এটা আবেগের,
কিন্তু বিষয়টা একটু অন্য রকম, দুটি কারনে —–

১. ডাঃ মইন ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় ২৭ বছর পূর্বে। মেডিকেল ভর্তি কোচিং করার সময়।
যখন জানলেন আমি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছি,
জিজ্ঞেস করলেন, – “কিভাবে ভর্তি হবে?
সিলেটে তোমার কোন আত্মীয় স্বজন আছেন”?

ঋণাত্নক উত্তরে উনি বললেন -” আমি তোমাকে নিয়ে যাবো”।
আমাকে ভর্তি করিয়ে উনার গ্রামের বাড়ী ছাতক গেলেন।
উনার প্রথম পরিচয়ের আন্তরিকতা ও ব্যবহার আমাকে অনেক শিখিয়েছে।

আজও উনি ছাতক যাবেন, চিরদিনের জন্য,
আর ফিরবেন না।
সকালে খবরটি শুনার পর অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে।

২. সকল চিকিৎসকের মত PPE’র চাহিদা উনার ছিলো,
কিন্তু এর অজুহাতে এযুদ্ধ থেকে পিছপা হননি।
উনি নিজের থেকে জুনিয়র সহকর্মীদের সুরক্ষার কথা বেশী চিন্তা করেছিলেন ও SACRIFICE করেছেন।
একজন বিবেকবান স্বাস্হ্যকর্মী ডাঃ মইন ভাই এযুদ্ধে
সকল কিছু বিসর্জন দিয়ে সেবা অব্যাহত রেখেছিলেন।

একটু চিন্তা করুন –
করোনার আগে / পরে মানুষ মারা গিয়েছিল,
যাচ্ছে ও ভবিষ্যতে যাবে।
এবিষয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়।
চিকিৎসকরা মৃত্যুর উর্ধে? অবশ্যই নয়।

কিন্তু করোনা পরিস্হিতি বিষয়টিকে অন্য রূপে নিয়েছে।
সকলের পাশাপাশি
করোনা যুদ্ধে স্বাস্হ্যকর্মীরা সম্মুখ যোদ্ধা।
এ পরিস্থিতিতে সকলের অবদান অবশ্যই স্বীকার্য।
সম্মুখ যোদ্ধাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আসা উচিত নয় কি?
আজ পর্যন্ত ৫০ অধিক চিকিৎসক সহ শতাধিক স্বাস্হ্যকর্মী আইসোলেশনে। এভাবে সম্মুখ যোদ্ধারা কোয়ারান্টাইনে গেলে যুদ্ধ জয়ী হবো কিভাবে?

কাদা ছোড়াছুড়ি ও দোষ অনুসন্ধানের সময় এখন নয়।
স্বাস্হ্যকর্মীসহ সকলের সহানুভূতি ও সহযোগিতায় আমরা এ মহামারিতে জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

ভালোবাসার পাশাপাশি
প্রয়োজন ভালো ভাষা ও।
প্রণোদনার চেয়ে প্রয়োজন প্রশংসা।

ডাঃ মইন উদ্দিন সহ যারা মারা গিয়েছিল, বা যাচ্ছেন, আল্লাহ আমাদের সকলকে মাফ করুন ও জান্নাত নসিব করুন।