করোনার আঘাতে লন্ডভন্ড চাটখিলের কর্মসংস্থান, দেখা দিতে পারে খাদ্য সংকট

ষ্ট্যাফ রিপোর্টার : মহামারী রূপ নেওয়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দীর্ঘায়িতই হচ্ছে, যার আঘাতে দেশের সর্বস্তরে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। আর দেশের সর্বস্তানের মত চাটখিলে করোনার আঘাত কর্মসংস্তানে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা খোলা হলেও হুমকির মুখে পড়েছে চাটখিলের কর্মজীবী মানুষ। প্রতিদিনই কাজ হারাচ্ছেন মানুষ। এতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বেকার সমস্যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন বেকারের মিছিল। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় বেকারের বোঝার সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশে ফিরে আসা প্রায় চাটখিলে ৫০ হাজার প্রবাসীর চাপ। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে জীবন বাঁচাতে দেশে ফিরে আসাদের বেশির ভাগই এখন বিপাকে পড়েছেন। শিগগিরই পুরনো কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারছেন না। আবার নিজ দেশেও কাজের তেমন কোনো সুযোগ নেই। ফলে অন্য সব সমস্যা ছাপিয়ে বেকার সমস্যা এখন সবচেয়ে সংকট হিসেবে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংবাদ অনুযায়ী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি ও বিআইজিডির জরিপের তথ্যমতে, গত তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) অন্তত ১৭ শতাংশ মানুষ নতুন করে বেকারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। আর নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন ২১ শতাংশ মানুষ। ডিসেম্বরের মধ্যে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আইএলওর তথ্যমতে, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৭০ শতাংশ কর্মীই কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও মোটেই সুখকর নয়। নতুন করে কতসংখ্যক মানুষ বেকার হবেন এর সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনই বলা যাবে না। তবে এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের অত্যন্ত ২ কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হবেন। আর এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বেকারত্বের সঙ্গে বাড়বে সামাজিক সংকটও। এরই মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। আর জীবন-জীবিকার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে লক্ষাধিক পরিবার ঢাকা ছেড়েছে বলে জানা গেছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে কভিড-১৯ চলছে। এটার যে অনিশ্চয়তা তা সবার কাছে একই রকম। ফলে দুর্ভোগ কবে কেটে যাবে তা বলা যাবে না। ফলে আমরা আসলে কেউই জানি না এর প্রভাব কবে শেষ হবে। এর ফলে গত ২৯ বছর পর দেশে নতুন কিছু মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছে। এ ছাড়া আগের বেকার সমস্যা তো আছেই। টিকতে না পেরে বহু মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। আবার যারা বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন, তারাও আর ফিরে যেতে পারছেন না। আবার এই পরিস্থিতিকে আরও প্রকট করেছে ৪০টি জেলার বন্যা পরিস্থিতি। এখান থেকে দুই ধরনের পথ নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রথমটা হচ্ছে আপৎকালীন কাজ। সেটি হলো মানুষকে নগদ সহায়তা দিতে হবে, যেন তারা খাবারের কষ্টে না পড়ে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখতে হবে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। তাদের সহায়তা দিতে হবে। একইভাবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর প্রচ- চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ দুটোকে উদ্ধারের জন্য পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনই শুরু করতে হবে। মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা- যেমন শিক্ষা, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা মানুষকে দিতে হবে অধিকারভিত্তিক। খয়রাতিভিত্তিক নয়।’ এ জন্য পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ মিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কভিড-১৯ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হবে এটা শুরুতে বোঝা যায়নি। এখন তো শুধু লম্বায়িতই নয়, আসলে কবে নাগাদ এটা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে তারও তো কোনো সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে। অর্থনীতিতেও অচলাবস্থা। ফলে কর্মসংস্থানে এর একটা বড় প্রভাব তো পড়বে, যা এখনই পড়তে শুরু করেছে।