করোণা আতঙ্কঃ ইতালি ফেরত ১৪২জন বাংলাদেশিদের মধ্যে ৬জনের বাড়ি চাটখিলে!

স্টাফ রিপোর্টারঃ  ইতালিতে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেখান থেকে দেশে ফেরা ১৪২ যাত্রীকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬জনের বাড়ি নোয়াখালী  জেলার চাটখিল উপজেলায়।  সালেহ আহমেদ বাবু ও তার পরিবারের ৩ সদস্য। সালেহ আহমেদ  বাবু  ৬নং পাচগাও  ইউনিয়নের আফসারখিল গ্রামের এবং অন্য দুজন চাটখিল পৌরসভা ২নং ওয়ার্ড  সুন্দরপুর তপদার বাড়ির বলে জানা যায়।
আজ শনিবার সকালে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবতরণ করেন তারা।

আজ সকাল ৮টায় এই ব্যক্তিরা রোম থেকে দুবাই হয়ে ঢাকায় আসেন বলে জানিয়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. শাহারিয়ার সাজ্জাদ।  তিনি বলেন, ‘ইতালি ফেরতদের আশকোনা হজক্যাম্পে রাখার প্রস্তুতি চলছে।’

বিমানবন্দরে নামার পর পুলিশ পাহারায় বিআরটিসির কয়েকটি বাসে এই ব্যক্তিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সম্ভাব্য ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এই ব্যক্তিদের সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে বিমানটিতে কতজন এসেছেন- জানতে চাইলে সংখ্যাটি নিশ্চিত করে বরতে পারেননি ডা. শাহরিয়ার।

তিনি বলেন, অ্যাডজেক্ট ফিগারটা এখনো বলতে পারছি না। সাড়ে ৫টায় দুবাই থেকে যখন ফ্লাইট ডিপার্চার করে, তখন আমাদের জানানো হয়েছিল ১২৫ জন পূর্ণ বয়স্ক এবং দেড় বছরের একটি শিশু। পরে আমরা হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখি মেলে না। সংখ্যাটি বেশি হতে পারে। এখন আমরা নিয়ে এসেছি, দেখতে হবে কত এসেছেন।

এর আগে চীনের উহান থেকে আসা বাংলাদেশিদের হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। কারও মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ না পেয়ে ১৪ দিন পর তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।

আড়াই মাস আগে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরেই প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। চীনে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটানোর পর এখন ইউরোপের দেশ ইতালিতে এই ভাইরাস সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশে যে ৩ জনের দেহে নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাদের দুজনই এসেছেন ইতালি থেকে। ইতালি থেকে আসা আরও অনেককে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ রাখার মধ্যে একসঙ্গে শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে শনিবার এলো এমিরেটসের ফ্লাইটটি।

এদিকে রাত দশটার পরে চাটখিলে ছয়জনকে আশকোনা হজ ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও বিশেষ মাধ্যমে জানা যায়। রাত এগারোটার দিকে চাটখিলের ছয়জন তাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।