এক সময়ের খরস্রোতা পুনর্ভবা নদী এখন খেলার মাঠ।

এক সময়ের খরস্রোতা পুনর্ভবা নদী এখন খেলার মাঠ। দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুনর্ভবা পানিশূন্য ধু-ধু বালুচরই নয়, এটা পরিণত হয়েছে খেলার মাঠে। বেশ অনেকটা জায়গায় আবার হচ্ছে চাষাবাদ। নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর ছেলেমেয়েরা খেলায় মেতে ওঠে পুনর্ভবার বুকে। অন্যদিকে এর দুই তীর দখল করেছে অবৈধ দখলদাররা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতে বর্ষা মৌসুমে স্রোত থাকলেও বছরের বেশির ভাগ সময় পানিশূন্য অবস্থায় শুকনো থাকে। ফলে নদীতে খেলার মাঠ তৈরি করে শিশুরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, গাদল, বউ?চিঁসহ নানা ধরনের খেলা করে।

অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর বুকে এখন ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হচ্ছে। চরের কোথাও হাঁটুজল, কোথাওবা জলবিহীন গর্ত। যেন বালু বুকে নিয়ে নদী জলের জন্য করছে  আর্তনাদ। অথচ অতীতে এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ব্যবসা-বাণিজ্য। এসব নদী দিয়ে চলত বড় বড় পালতোলা নৌকা। আজ আর নেই সে অবস্থা। বরং নদী হারাতে বসেছে গতিপথ, হারিয়েছে অস্তিত্ব। অনেক স্থানে নদী টিকে আছে নামে মাত্র। খনন ও সংস্কার না করায় পুনর্ভবা নাব্যতা হারিয়েছে। এতে এ অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়েছে। আবার দখল আর ভরাটে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষাকালে দেখা দেয় বন্যার আশঙ্কা। নদীর ফাঁকা মাঠগুলোতে অবাধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন স্থানীয়
বাসিন্দারা।
পুনর্ভবা তীরবর্তী স্থানীয় যুবক মো. জাকির হোসেন জানান, দিন দিন ফাঁকা মাঠগুলোতে বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে গ্রামের তরুণরা ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে এ নদীর চরে। কাঞ্চন সড়ক সেতু ও রেলব্রিজ সেতুর মাঝামাঝি অংশে প্রতিদিন ক্রিকেট খেলে মাহিন, আরিফুল, সোহাগসহ অনেক স্থানীয় তরুণ-যুবক। আর কাঞ্চন সড়ক সেতু থেকে শত শত দর্শক অবলোকন করে নদীর বুকে এই মাঠের খেলা। দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর জামান নয়ন জানান, পুনর্ভবা নদীর প্রস্থ ও গভীরতা কমে প্রায় সমতল হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পলি ও বালু পড়ে ভরাট হয়ে এটি মরা নদীতে পরিণত হয়। জেগে ওঠা চরে চলে চাষাবাদ। আবার বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় বন্যার আশঙ্কা। এ জন্য বিগত বন্যার পরই পুনর্ভবা নদী খনন ও সংস্কারের জন্য শহর রক্ষা প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নিজেই এই খনন ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করবে তাই এ প্রকল্প বাদ পড়ে যায়। নদী দখল হয়ে যাচ্ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদী শাসন করার কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের। কিন্তু নদীর ভূমির দায়িত্ব ভূমি অফিসের। তবে সদরের গোসাইপুর থেকে সুন্দরা পর্যন্ত নদীর তীর দখলকারীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার হতে পারে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ পুনর্ভবা নদীর খনন ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করলে তখন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হতে পারে।