আর কত পুড়লে চাটখিলে ফায়ার সার্ভিস স্থাপিত হবে

চাটখিলে আগুন কথাটি এখন আর শুনলে কেউ আত্নংকিত বা ভয় পায় না। এই উপজেলার মানুষ এখন আগুনের চাইতেও বেশি আগুন। তাঁরা জনে কি ভাবে আগুন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু দু:খের বিষয় হল চাটখিল উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দী হয়ে আছে দীর্ঘ দিন যাবৎ। কিন্তু গত দুই বছরে অগ্নিকাণ্ডে ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও চাটখিলবাসীর দাবি এখনো পূরণ হয়নি। চাটখিল বাজারের আগুন লাগার বিভিন্ন তারিখ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩০ মার্চ গভীর রাতে চাটখিল পূর্ব বাজারে একতা সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে মোহাম্মদিয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টসহ ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়, যার ক্ষতি ১০ কোটি টাকা। এতে আহত হন ১৫ জন। একই বছর ৬ ডিসেম্বর পৌর শহরের বদলকোট সড়কে ইয়াছিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১০ লাখ টাকার মাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ২০১১ সালের ১২ মার্চ চাটখিল পৌর শহরে সিএন্ডবি রোডের দক্ষিণ পাশের মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ২০টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। এতে ক্ষতি পাঁচ কোটি টাকা। আহত হন পাঁচজন। এ দিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে ভোরে চাটখিল পৌরশহরের মাছ বাজার সড়কে অগ্নিকাণ্ডে ১৭টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হলে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ওই দিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী চাটখিলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবিতে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন- দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জোট সরকারের এমপি সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ভীমপুর মাখরাজ মসজিদ সংলগ্ন সিএন্ডবি রোডের উত্তর পাশে ফায়ার সার্ভিসের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর অজ্ঞাত কারণে ফায়ার স্টেশন নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। এ দিকে গত ১২ মার্চ ২০১১ইং চাটখিল পৌর শহরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দেখতে এসে বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও চাটখিল-সোনাইমুড়ী আসনের এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের জানান, চাটখিলে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য সংসদ থেকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে; কিন্তু স্থান সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি স্থাপন করা যাচ্ছে না। তিনি ফায়ার স্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান। এ দিকে একটি সূত্র জানায়, গত বছর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৩ নম্বর পরকোট ইউনিয়নের পরকোট গ্রামে সিএন্ডবি রোডের উত্তর পাশে সড়ক ও জনপথের ৩৩ শতক ভূমির ওপর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। অপর দিকে নির্বাহী কর্মকর্তা আবু দাউদ গোলাম মোস্তফা জানান, শিগগিরই চাটখিলে ফায়াস সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করা হবে। চাটখিলের হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, যত দ্রুত সম্ভব চাটখিলে ফায়ার স্টেশন সার্ভিস স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হোক। তাদের সকলের একটাই কথা আর কত পুড়লে চাটখিলে ফায়ার সার্ভিস স্থাপিত হবে?