আজ ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: চাটখিলবার্তায় লেখেছের ডা: এটিএম জাবেদ হাসান

#২৯অক্টোবর,  #বিশ্ব_স্ট্রোক_দিবস
♥♥♥♥♥♥

#স্ট্রাইক থেকে স্ট্রোকঃ

@ Strike শব্দের অর্থ ধর্মঘট। এর আরো অর্থ হল – বাড়ি মারা, আঘাত হানা, আকস্মিক আবিষ্কার ইত্যাদি।

@ এই strike থাকে Stroke শব্দটা এসেছে।

@ Brain এ হঠাৎ রক্ত নালীতে সমস্যা হওয়ায় আকস্মিক নিউরোলজিক্যাল উপসর্গ তৈরী হয় বলে একে Brain stroke বলে।

@ ♥ Heart এ হঠাৎ রক্ত চলাচলের বিঘ্নতা হলেও একে heart attack বা heart stroke বলে।

@ সামাজিকভাবে স্ট্রোক বলতে দুটোই বুঝে থাকে। তবে Brain stroke বা heart attack / stroke আলাদা বিষয়!!!!

♠♠ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস♣♣

#শুরুর_কথঃ

@ সারাবিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক।

@ বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।

@ বছরে আক্রান্ত হচ্ছে ৬ কোটি এবং মারা যাচ্ছে ২ কোটি মানুষ।

@ স্ট্রোকের কারণে দেড় কোটি লোক পঙ্গু হচ্ছে।

@ স্ট্রোকে আক্রান্তরা বেঁচে থেকেও দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন।

@ স্ট্রোকে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে।

@ আমাদের দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী রয়েছে।

@ অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবেই এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

@ তাই স্ট্রোক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উদযাপিত হয়।

#স্ট্রোক_কি?

@ মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার ফলে যে অব্যবস্থা দ্রুত জন্ম নেয় তাকে বলা হয় স্ট্রোক (Stroke)।

@ দেহের রক্তের মাত্র ২% মস্তিষ্ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক কোষসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল।

@ তাই অক্সিজেন বা শর্করা সরবরাহে সমস্যা হলে দ্রুত এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

@ ওই কোষগুলো শরীরের যেই অংশ নিয়ন্ত্রণ করত ওই অংশ গুলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

#স্ট্রোকের_টাইপঃ

১/ ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোকঃ
এতে brain এ আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

২/ হেমোরেজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক ঃ
এধরনে মস্তিষ্কে রক্তনালী বিদীর্ণ হয় রক্তক্ষরণ হয়।

#স্ট্রোকের_লক্ষণঃ

@ রোগীরা দুধরনের স্ট্রোকে প্রায় একই ধরনের উপসর্গ বা লক্ষ্মণ (symptoms & signs) নিয়ে আসতে পারে।

@ তবে রোগীর অবস্থা কতটা খারাপ তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের অঞ্চলসমূহের কোন এলাকায় রক্ত চলাচলে ব্যত্যয় ঘটলো তার উপর, কতোটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হল এবং কতো দ্রুত ওই অঘটন ঘটে থাকে, তার উপর।

সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়ঃ

® মাথা ঘুরানো, হাটতে অসুবিধা হওয়া, ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া
® কথা বলতে সমস্যা হওয়া
® অবশ, দুর্বলতা লাগা, শরীরের এক পাশ অকেজো হওয়া
® চোখে ঘোলা লাগা, অন্ধকার লাগা বা ডাবল দেখা
® হঠাৎ খুব মাথা ব্যথা ইত্যাদি।

#স্ট্রোকে_আপনি_কতটা_ঝুকিপূর্ণ/
#কাদের_স্ট্রোক_হবার_সম্ভাবনা_কতটুকুঃ

প্রতি ৬ জনে ১ জনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে। হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুকির কারণ গুলো মোটামুটি একই, যেমন
® উচ্চ রক্তচাপ ঃ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় ঝুকি হলো উচ্চরক্তচাপ।
®বেশি কোলেস্টেরল
® ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ
® ধুমপান
® স্থূলতা
® স্ট্রোক হবার পারিবারিক ইতিহাস
® সাধারণত স্ট্রোক ৫৫ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষদের বেশি হয়।

#কিভাবে_স্ট্রোক_নির্নয়_করা_হয়?

১/ শারীরিক ঝুকির পরিমাপ:
★ ব্লাড প্রেসার মাপা,
★ রক্তে কোলস্টেরল মাপা,
★ ডায়াবেটিস মাপা

২/ আল্ট্রাসাউন্ড ক্যারোটিড আর্টারী : ঘাড়ের আর্টারির ছবি নিয়ে দেখা যে কথাও রক্তনালী সরু কিংবা বন্ধ হয়ে গেছে কিনা।

৩/ আর্টরীয়গ্রাফি (Arteriography) : রক্তনালীতে এক ধরনের রং প্রবেশ করিয়ে x-ray করানো, এতে রক্ত চলাচলের একটা ছবি পাওয়া যায়

৪/ CT scan (Computerized Tomography scan) : করে মস্তিস্কের 3D স্ক্যান করা যায়

৫/ MRI (Magnetic Resonance Imaging) : চুম্বকক্ষেত্র তৈরী করে দেখার চেষ্টা করা হয় যে মস্তিষ্ককলার কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা

৬/ ইকো কার্ডইওগ্রাফি: Echocardiography তে আল্ট্রা সাউন্ড ব্যবহার করে হৃদপিন্ডের একটা ছবি তুলে দেখা হয় কোনো জমাট রক্ত, বুদ বুদ কিংবা অন্যকিছু(ইংরেজি: embolus) রক্ত চলা চল বন্ধ করছে কিনা।

#স্ট্রোকের_ঝুকি_কমানোর_উপায়_কি?

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনব্যবস্থা বজায় রাখলে অনেক খানি ঝুকি কমানো যায় :
® ব্লাড প্রেসার জানা এবং কন্ট্রোল করা
® ধুমপান না করা
® কোলেসটেরল এবং চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া
® নিয়ম মাফিক খাবার খাওয়া
® সতর্ক ভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা
® নিয়ম করে হাটা বা হালকা দৌড়ানো
® দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা।

#স্ট্রোকের_চিকিৎসা_কি?

@ মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণজনিত স্ট্রোক একটি ভয়ানক জরুরি অবস্থা (Critical condition) – তাই রোগীকে শীঘ্রই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়া উচিত।

আল্লাহ আমাদের সকলকে stroke এর strike থেকে রক্ষা করুন।