আওয়ামীলীগের সম্মেলন : চাটখিল যুবলীগের কান্ডারী কে?

মোহাম্মদ উল্যা পাটোয়ারী, মেয়র চাটখিল পৌরসভা
বেলায়েত হোসেন তপদার যুবলীগ আহবায়ক

মাইনউদ্দিন বাঁধন: আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রতিবারই উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে সারা দেশের মত চাটখিল উপজেলা যুবলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে। যার যার অবস্থান থেকে প্রার্থিতা জানান দেন প্রার্থীরা। সংগঠনটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করেন। তবে এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন। যুবলীগ নেতাদের মধ্যে তেমন কোন উল্লাস না তাকলেও, আলোচনায় আছেন কিছু উদয়মান নেতা। গত কয়েকদিনে জাতীয় পর্যায়ে ক্যাসিনো ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ডেরা। সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব অনেকের বিরুদ্ধে উঠে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ জুয়া পরিচালনা কিংবা এই অবৈধ ব্যবসা থেকে সুবিধাভোগের অভিযোগ। এ সব অভিযোগে যুবলীগের মাঠ কাঁপানো বাঘা বাঘা নেতাদের অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন, রিমান্ডে আছেন। কেউ কেউ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কারও হয়েছেন। যারা বহিষ্কার কিংবা গ্রেফতার হননি তারাও রয়েছেন আতঙ্কে। এ কারণে এবারের চাটখিল উপজেলা যুবলীগে বিরাজ করছে আতঙ্ক। পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা চুপসে গেছেন। প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে ভয়ে আছেন। অনেকেরই ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ দশা। এদিকে জাতীয় পর্যায় বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে জানাযায়,  ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে প্রায় প্রতিটি সম্মেলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব পেয়েছে আওয়ামী যুবলীগ। এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলায় এবং বিরোধী দলে (আওয়ামী লীগ) থাকলে বিক্ষোভে রাজপথ কাঁপিয়েছে যুবলীগ। দেশের সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যুবলীগ যে সবচেয়ে শক্তিশালী, সেটি রাজনীতি সচেতনরা এক বাক্যে মেনে নেবেন। সংগঠন হিসেবে যুবলীগের প্রশংসা যেমন আছে, তেমনি বদনামও কম নয়। সেটি নেতৃত্বের কারণেই। সংগঠন হিসেবে যুবলীগের প্রশংসা যেমন আছে, তেমনি বদনামও কম নয়। সেটি নেতৃত্বের কারণেই। চলমান মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের নাম চলে আসছে। অনেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। অনেকে গ্রেফতারের অপেক্ষায়। প্রতিষ্ঠার পর এবারের মতো এতটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি যুবলীগ কখনও পড়েছে কিনা সেটি তর্কসাপেক্ষ ব্যাপার। যুবলীগ নেতাদের টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে টানা তিনবার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের অর্জন ম্লান হতে বসেছে।

রিয়াজ খান, উপ-সম্পাদক নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ সদস্য, নোয়াখালী জেলা যুবলীগ।
সালাউদ্দিন সুমন, আহবায়ক উপজেলা ছাত্রলীগ

১৯৭২ সালের নভেম্বরে শেখ ফজুলল হক মনির হাত ধরে যুবলীগের পথচলা শুরু। এর পর থেকে যারাই যুবলীগের নেতৃত্বে এসেছেন প্রত্যেকেরই দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পন্ন ছিলেন। তাদের মেধা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল আকাশচুম্বি। এদিকে চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভারসাম্য থাকলেও গত কয়েক বছর যুবলীগে লেগে আছে অভিমান আছে দুটি পক্ষ। গত কয়েক বছর বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যম গুলোতে যুবলীগের আহবায়ক লেখা নিয়েও প্রশ্নের সম্মূখীন হয়েছে সাংবাদিকরা। সর্ব শেষ ২০১২ সালে চাটখিল উপজেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা নিয়ে এখন পর্যন্ত রয়েছে বাক-বিতন্ড। একপক্ষ, পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদউল্যা পাটোয়ারী। তিনি যুবলীগ আহবায়ক হিসেবে দল থেকে পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। মেয়র হওয়ার পর থেকে তিনি পৌরসভার কিংবা উপজেলা নেতাকর্মীদের দলের সার্থে আর্থিক,শাররিক,মানুষিক এবং রাজনীতিক আ্শ্রয় প্রদান করে হয়েছেন জনপ্রিয় মেয়র। অন্যদিক, চাটখিল উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা আওয়ামীলীগের জন্য সব সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মোহম্মদ বেলায়েত হোসেন ক্ষমতায় থাকার আসার পর থেকে দলীয় সকল কার্যকলাপে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আওয়ামীলীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের মাঝে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে বেলায়েত নিজেও চাটখিল পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী।বিভিন্ন পর্যালচনায়,  আসন্ন সম্মেলনে চাটখিল উপজেলা যুবলীগ নতুন প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে নতুন দুই মূখ। চাটখিল উপজেলা ছাত্রলীগের দীর্ঘদিন আহবায়ক ও দক্ষিনাঞ্চলের পরিচিত নেতা সালাউদ্দিন সুমন। অন্যদিকে তরুন নেতা হিসেবে শুনা যাচ্ছে রিয়াজ খানের নাম। তিনিও দীর্ঘদিন নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের উপ-সম্পদকের পদে থেকে নেতাকর্মীদের দৃষ্টিগোছর হয়েছে। বর্তমানে রিয়াজ খান নোয়াখালী জেলা যুবলীগ কমিটির সদস্য।নতুন কিংবা পুরাতন যেই আসুক না কেন এইবারে চাটখিল উপজেলা যুবলীগের নতুন কিছু চমকের আসায় চাটখিলের মানুষ। সিনিয়র নেতাকর্মীদের দাবি, একজন ক্লিন ইমেজের নেতাকে দিয়ে চাটখিলের আগামীর যুবলীগ পরিচালিত হবে।