এইমাত্র পাওয়া খবর: 
চাটখিলবার্তা, চাটখিলের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে, আপনাদের সহায়তা আজকের আমরা, আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।  *  রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করুন, আপনার পাশে থাকা হতদরিদ্রদের সহযোগীতায় এগিয়ে আসুন-চাটখিলবার্তা পরিবার-০১৭১২২৩১৯১২, ০১৮৩১০১৬৭২০, ০১৭১০৬৪০৩৫৫  *  চাটখিলবার্তা পড়ুন, চাটখিলের সকল খরব জানুন log in : www.chatkhilbarta.net যোগাযোগ করুন : ০১৭১২২৩১৯১২, ০১৮৩১০১৬৭২০ ইমেই করুন: news@chatkhilbarta.net
শিরোনাম: 
| ২২  নভেম্বর - ২০১৭

মুক্তমত » ধর্ম

ঈদ কিভাবে উদযাপন করবেন

Morning - 11:59 PM   Thursday   2017-06-23

A- A A+

ঈদ, কীভাবে উদযাপন করবেন। 'ঈদ' শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ, যা বারবার আসে, ঘুরেফিরে আসে। যেহেতু ঈদ প্রতি বছর দুইবার ঘুরেফিরে আমাদের মাঝে আগমন করে, এ জন্য একে ঈদ বলা হয়। তবে এর ব্যবহারিক অর্থ হচ্ছে, আনন্দ, খুশি। পবিত্র কুরআনের সুরাহ মায়েদার ১১৪ নম্বর আয়াতে ঈদ শব্দটি আনন্দ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। ঈদ শব্দটি বর্ণের সংখ্যায় একটি ছোট শব্দ হলেও মাহাত্ম্য এবং শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে ব্যাপক অর্থবোধক একটি শব্দ। এ শব্দের ভেতর লুকিয়ে আছে হাসি, আনন্দ, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব আর সহমর্মিতার অনন্য সমাহার। ঈদের আনন্দের মত আর কোনো আনন্দই এত ভাগাভাগি হয়না, সর্বজনীন হয়না। এর কারণ, ঈদ এমন একটি আনন্দ আয়োজন, যার আয়োজক স্বয়ং স্রষ্টা। দীর্ঘ একটি মাস স্রষ্টার নির্দেশে উপবাস থাকার মাধ্যমে ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের পর প্রিয় বান্দারা স্রষ্টার মেহমান হিসেবেই যেন পালন করে ঈদ আনন্দ। হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করার পর দেখলেন সেখানকার লোকেরা বছরে দুই দিন খেলাধুলা করছে। রাসুল উক্ত দিনগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বললো, "আমরা জাহেলী যুগ থেকেই এ দুইটি দিন খেলাধুলার আয়োজন করে আসছি।" রাসুল বললেন, "আল্লাহ তোমাদের জন্য অন্য দুইটি দিনের সূচনা করেছেন, যেগুলো এ দিনগুলো থেকে উত্তম। সে দিনগুলো হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।" (আবু দাউদ- ১১৩৪) হাদিসে আরো এসেছে, রাসুল বলেন, "রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ ; একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আনন্দ।" অতএব, বুঝা গেল, ঈদের আনন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে সেসব বান্দার জন্য উপহার স্বরূপ, যারা তার সন্তুষ্টি লাভের জন্যই সিয়াম সাধনা করেছে। সিয়াম সাধনা না করে ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করা যায়না, চাই যতই সুন্দর ও দামি পোশাক পরিধান করা হোক না কেন। সব কাজেই যেমন শরিয়তের দিক নির্দেশনা রয়েছে, তেমনি ঈদের দিনেও মুসলিমদের করণীয় সম্বন্ধে শরিয়তের নির্দেশনা রয়েছে। এখানে হাদিসের আলোকে ঈদের দিনের করণীয় উল্লেখ করা হলো : ১। গোসল, সুগন্ধি ও সাজসজ্জা : ঈদের দিন নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করা মুস্তাহাব। বর্ণিত আছে, সাহাবী ইবনে ওমার রা. দুই ঈদের সালাতে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। গোসলের পর সুগন্ধি ব্যবহার ও যথাসম্ভব সাজসজ্জা গ্রহণ করা সুন্নত। হাদিসে এসেছে, ওমার রা. বাজারে বিক্রি হয়, এমন একটি রেশমি কাপড়ের জামা রাসুলের জন্য এনে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এই জামা ঈদ এবং কোনো প্রতিনিধি দলের আগমণের দিন পরিধান করতে পারবেন। রাসুল ওই জামাটি রেশমি কাপড়ের হওয়ায় গ্রহণ করেন নি। তবে এই হাদিস দ্বারা বুঝা যায় ঈদের দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করার নিয়ম তখন ছিল। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল সা. ঈদ এবং জুমুয়ার দিনের জন্য আলাদা জামা রেখেছিলেন। ২। ফিতরাহ আদায় করে দেয়া : গরিব ও অসহায় মানুষেরা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য ইসলাম ঈদুল ফিতরের দিন ফিতরাহ প্রদানের বিধান দিয়েছে। ফিতরাহ ছোট বড়, নারী পুরুষ সবার উপর ওয়াজিব। ঈদের নামাজের আগেই ফিতরাহ আদায় করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ৩। সামান্য খাবার গ্রহণ : ঈদুল ফিতরের দিন নামাজে যাওয়ার আগেই খেজুর অথবা খেজুর না থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা সুন্নত। বর্ণিত আছে রাসুল সা. বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। তবে ঈদুল আজহার দিনে নামাজের পরে খাওয়া সুন্নত। ৪। আনন্দ উপভোগ : ঈদ মানে আনন্দ। সুতরাং সকল অশ্লীলতা এবং অনৈসলামিক কর্মকান্ড পরিহারপূর্বক বৈধ বিনোদনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা উচিৎ। ঈদের দিন নিজেকে আনন্দ উৎসব থেকে দূরে রাখা কিংবা মন খারাপ করে রাখা ঠিক না। হাদিসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশাহ রা. বলেন, ঈদের দিন রাসুলের ঘরে দুইজন আনসারী মেয়ে বুয়াস যুদ্ধের সময় আনসারদের গাওয়া বীরত্বব্যঞ্জক গানগুলো আবৃত্তি করছিল এবং দফ বাজাচ্ছিল। রাসুল তখন চাদর মুড়ি দিয়ে ঘরেই শোয়া ছিলেন। এমন সময় আবু বকর রা. আমার ঘরে আসলেন। ঘটনা দেখে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, 'রাসুলের ঘরে এমন শয়তানী বাদ্যযন্ত্র বাজানো হচ্ছে!' আবু বকরের কথা শুনে রাসুল চাদর থেকে মুখ বের করে বললেন, 'এদেরকে ছেড়ে দাও; প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ঈদ রয়েছে। আর এটা হচ্ছে আমাদের ঈদ।' আয়েশাহ বলেন, 'অতঃপর আমি মেয়ে দুটিকে ইশারা করলে তারা বেরিয়ে যায়। আয়েশাহ রা. আরো বলেন, ''ঈদের দিন সুদানীরা বর্শা ও ঢাল দিয়ে খেলা করত। রাসুল আমাকে জিজ্ঞেস করলেন (অথবা আমিই আগ্রহ দেখিয়েছিলাম), তোমার কি খেলা দেখতে মন চায়? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন খেলা দেখানোর জন্য আমাকে তার পেছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়েছিলেন যে, আমার গাল তার গালের সাথে লেগেছিল। তিনি (বনু আরফিদাকে সাহস দেয়ার জন্য) বললেন, 'হে বনু আরফিদাহ, যা করছিলে, করে যাও।' একপর্যায়ে আমি ক্লান্ত হয়ে গেলে রাসুল আমাকে বললেন, 'হে আয়েশাহ, হয়েছে তো?' আমি বললাম, জ্বি। তিনি বললেন, 'তবে যাও।' আয়েশাহ আরো বলেন, "রাসুল আমাকে আড়াল করে রেখেছিলেন। আমি তখনো ছোট মেয়ে ছিলাম। অতএব তোমরাও ছোট মেয়েদের আনন্দ বিনোদনকে অবহেলার চোখে দেখ না।" ৫। ঈদের মাঠে করণীয় : ঈদের মাঠে গিয়ে রাসুল প্রথমেই নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর খুতবাহ দিতেন। খুতবাহ শেষে সবাইকে আল্লাহর পথে দান করার জন্য বলতেন। সবাই দান করতেন। মহিলারাও তাদের অলংকারাদি থেকে দান করতেন। অতঃপর তিনি অন্যান্য নির্দেশনা রাজি করতেন। কখনো কখনো জিহাদের জন্য বিভিন্ন দল তৈরি করতেন। তখন মহিলারাও ঈদের নামাজে আসতেন। রাসুল তাদেরকে ঈদের মাঠে আসার জন্য তাগিদ দিতেন। তিনি বলতেন, যেসব নারীর জিলবাব নেই, তারা যেন অন্যদের থেকে ধার করে হলেও ঈদের মাঠে আসে। ঈদের মাঠে হেঁটে যাওয়া এবং আসা যাওয়ায় রাস্তা পরিবর্তন করা সুন্নত। ৬। তাকবীর : উভয় ঈদেই তাকবীর দেয়া সুন্নত। সাহাবিগণ রা. ঈদের মাঠের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকবীর দিতেন ঈমাম খুতবাহ থেকে ফারেগ হওয়া পর্যন্ত। তাকবীর হলো, 'আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।' ৭। শুভেচ্ছা বিনিময় : ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।যেমন : (ক) হাফেয ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, সাহাবায়ে কিরামগণ ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন : ‘তাকাববালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ অর্থ- আল্লাহতায়ালা আমাদের ও আপনার ভাল কাজগুলো কবুল করুন। (খ) ‘ঈদ মুবারক’ ইনশাআল্লাহ। (গ) ‘ঈদুকুম সাঈদ’ বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। অন্য হাদিসে এসেছে, সাহাবিগণ রা. ঈদের দিনে পরস্পর সাক্ষাতে বলতেন, 'তুকুব্বিলা মিন্না ওয়া মিনকা।' ঈদে বর্জনীয় : আমরা জানলাম ঈদের দিন আনন্দ করতে হবে, সুন্দর পোশাক পরিধান করতে হবে। তবে এসব করতে গিয়ে অনৈসলামিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়া যাবেনা। সাজসজ্জা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবেনা। অপচয় করা যাবেনা। কুরআনে এসেছে, "নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।"(সুরাহ বানি ইসরাইল, আয়াত- ২৭) অন্য আয়াতে এসেছে, "আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।"(সুরাহ আ'রাফ, আয়াত - ৩১) অতএব ঈদে সাজসজ্জার নামে অপচয় থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয়বহুল পোশাক, রেশমি পোশাক, বিপরীত লিঙ্গের সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন পোশাক, খুবই পাতলা কিংবা আঁটসাঁট পোশাক, সতর অনাবৃত রাখে এমন পোশাক এবং বিধর্মীদের ধর্মীয় পোশাকের সাথে মিল রাখে, এমন পোশাক পরিধান করা যাবেনা। ঈদ আনন্দ করতে গিয়ে দেখা যায় আমরা অশ্লীল কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে যাই। এটা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ ইসলাম সব ধরনের অশ্লীলতাকে হারাম করেছে। কুরআন বলছে, "যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতার বিস্তার করতে চায়, তাদের জন্য দুনিয়ায় ও আখিরাতে রয়েছে কঠোর শাস্তি।" (সুরাহ নূর, আয়াত- ১৯) শেষ কথা : ঈদ আল্লাহ প্রদত্ত একটি পবিত্র উৎসব। ঈদের পবিত্রতা রক্ষা করেই ঈদ উদযাপন করা উচিৎ। এটা যেহেতু মুসলমানদের উৎসব, সেহেতু মুসলমানদের নিজস্ব কালচারেই তা পালন করতে হবে। কোনোভাবেই বিজাতীয় কালচার অনুসরণ করা যাবেনা। ------ আবু রুফাইদাহ রফিক আরবি প্রভাষক, জয়নারায়নপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


News of your area

usericon

Be the First to Commnent

Also on chatkhil.com

fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu
fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu
fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu
fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu

Powered by চাটখিলবার্তা :: Designed and Developed By Colour Spray Ltd.