এইমাত্র পাওয়া খবর: 
বিজিবি ১. নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান- ০১৭৬৯-৬১৩৩০৫ ২. হাবিলদার রাফিউল আলম- ০১৭২৩-৩৬৬৬০৭ ৩. হাবিলদার মাজেদুল হক - ০১৭৩৫-২৭৭৩৩৩ ৪. হাবিলদার মফিজুর রহমান - ০১৭১৭- ০৩৬১১৪ নির্বাহী ম্যাজিসটেট রুহুল আমিন -  *  চাটখিলবার্তা পড়ুন, চাটখিল সহ বাংলাদেশের সকল খবর জানতে এখনই লগইন করুন: www.chatkhilbarta.net যোগাযোগ- ০১৭১২২৩১৯১২,০১৭১০৬৪০৩৫৫, ইমেইল- news@chatkhilbarta.net  *  চাটখিলবার্তা পড়ুন, চাটখিলের সকল খরব জানুন log in : www.chatkhilbarta.net যোগাযোগ করুন : ০১৭১২২৩১৯১২, ০১৮৩১০১৬৭২০ ইমেই করুন: news@chatkhilbarta.net
শিরোনাম: 
| ২২  অগাস্ট - ২০১৯

প্রতিবেদন » রামনারায়নপুর

গ্যাস বিস্ফোরণে চাটখিলের একই পরিবারের ৪ জন নিহত

Morning - 11:56 PM   Sunday   2019-04-15

A- A A+

নারায়নগঞ্জে ফতুল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরনে চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া বেগের বাড়ির মৃত আবদুল ওহাব বেগের ছোট ছেলে আবদুর রহিম বেগের (৪০) স্ত্রী ও ৩ সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আর এ ঘটনায় পরিবারে বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য ( কর্মস্থলে থাকায়) গৃকর্তা আবদুর রহিম সবাইকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায়। একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে চাকুরী করা আবদুর রহিমের নিকট আত্নীয় ও সহকর্মী শওকত প্রিয় নোয়াখালীকে বলেন, তিনি (আবদুর রহিম) প্রতিদিনতো ফ্যক্টরী থেকে আরো তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতেন কিন্তু সেদিন কাজ থাকায় তিনি ফ্যক্টরীতে অবস্থান করেন। বিষ্ফোরিত ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার বেলাল হোসেনের বর্ননায় সেদিনের সেই ঘটনার বিবরনঃ রাত আনুমানিক ৮টা। হঠাৎ বিকট শব্দ। কিছু বুঝে উঠার আগেই মেয়ে মানুষের আর্তনাদ। তাকিয়ে দেখি শিশু দুই বাচ্চাকে নিয়ে সিঁড়ি বেড়ে নিচে নামছেন অগ্নিদ্বগ্ধ ফাতেমা। তার শরীরে তখন আগুন। শরীর থেকে মাংস খসে পড়ছে। দুই শিশুর করুণ আর্তনাদ তখন। লোকজন ছুটে এসে তাদের নিয়ে রওনা দেয় মেডিক্যালে দিকে। সিঁড়ি বেড়ে চার তলায় গিয়ে দেখি শরীরের বেশির ভাগ ঝলসানো রাফি (১১) পড়ে আছে ডাইনিং টেবিলের কাছে। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যালের দিকে রওনা হই। এ ঘটনায় অগ্নিদ্বগ্ধ মা ছেলে মেয়েসহ চারজনই মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে মো: বেলাল হোসেন জানান, সে কী বিভীষিকাময় মুহূর্ত। বলে শেষে করা যাবে না। অগ্নিদ্বগ্ধ মানুষের করুণ আর্তনাদ আমাদের নাড়িয়ে দিয়ে গেল। চোখের সামনে এত্তগুলো মানুষের করুণ মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারিছ না। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার গিরিধারা আবাসিক এলাকার সদ্য নির্মিত বিসমিল্লাহ টুইনটাওয়ারের ছয়তলা ভবনের চারতলার ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেন আব্দুর রহিম। টাকা জমিয়ে সমিতির মাধ্যমে কয়েকজন মিলে জমি কিনেন আব্দুর রহিম। ওই জমিতে ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ এখনো চলছে। কয়েক মাস আগে আব্দুর রহিমসহ আরো ছয়জন তাদের তৈরি করা ফ্ল্যাটে পরিবার পরিজন নিয়ে উঠেন। স্ত্রী ফাতেমা এবং দুই পুত্র এক কন্যা সন্তান নিয়ে ঐ ভবনের ৪র্থ তলার নিজ ফ্ল্যাটে উঠেন ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম। গত ৬ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুরো ঘরে আগুন ধরে যায় । অগ্নিদ্বগ্ধ হন আব্দুর রহিমের স্ত্রী ফাতেমা (৩৫) তার তিন সন্তান সাফওয়ান (৫), ফারিয়া (৯) ও রাফি (১১) গুরুতর আহত হন। তাদের শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে যায় বলে জানান (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের ডাক্তারা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ১২ এপ্রিল রাতে মারা যায় আব্দুর রহিমের কন্যা অগ্নিদ্বগ্ধ ফারিয়া (৯)। সে গিরিধারা ডি-লাইট স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। এর আগে ১০ এপ্রিল মারা গেছে পুত্র রাফি (১১)। সে ঐ স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। গত ৭ এপ্রিল রোববার রাতে অগ্নিদগ্ধ সাফওয়ান (৫) ও তার পরের দিন ৮ এপ্রিল আব্দুর রহিমের স্ত্রী অগ্নিদ্বগ্ধ ফতেমা আক্তার মারা যান। একসাথে স্ত্রী পুত্র কন্যা সন্তানসহ চারজনকে অকালে হারিয়ে পাগলপ্রায় ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম। স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকাণ্ড দেখি। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসি। বাসার সিলিন্ডার লিকেজে আগুন ধরেছে। মৃত্যুর আগে গুরুতর দগ্ধ ফাতেমা বলে গেছেন, ‘রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডারে লিকেজ ছিল আমরা পাশের ঘর থেকে গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছিলাম। হঠাৎ রান্নাঘরে বিস্ফোরণ হয়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আর কিছু মনে নেই। ফাতেমার স্বামী আবদুর রহিম জানান, তিনি একটি ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। পাশাপাশি ব্যবসা করেন। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তার মেয়ে ফারিয়া স্থানীয় ডিলাইট স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে এবং ছেলে রাফি পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে। অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে এতগুলো মৃত্যু মর্মান্তিক উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মজিবর বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, চারজনেরই শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। তাদের চারজনের অবস্থাই গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, তাদের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রেখে আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি সুস্থ করে তোলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডা: সাইফুর রহমান জানান, ‘দগ্ধ চারজনের মধ্যে তিনজনের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং একজনের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অবস্থা ছিল খুবই ক্রিটিক্যাল। রিকভার করা প্রায় অসম্ভব ছিল। আব্দুর রহিমের নিকটাত্মীয়রা জানান , অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে নিহত ফাতেমা ও তার সন্তানদের গ্রামের বাড়ি চাটখিলে দাফন করা হয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ তাদের কবর দেখতে আসছেন এবং এভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া পরিবারটি নিয়ে আফসোস করছেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


News of your area

usericon

Be the First to Commnent

Also on chatkhil.com

fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu
fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu
fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu
fbnglkjhfkhjof
fgjhnghu

প্রতিবেদন

Powered by চাটখিলবার্তা :: Designed and Developed By Colour Spray Ltd.